bogra times Add
ঢাকাশুক্রবার , ২০ মার্চ ২০২৬

১ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও কেনা যাচ্ছে না ১ কেজি ইলিশ

নিউজ ডেস্কঃ-
মার্চ ২০, ২০২৬ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক নিউজ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় চাষিরা চরম হতাশায় পড়েছেন। চলতি সপ্তাহে ১ মণ (৪২ কেজি) পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বাজারে ১ কেজি ইলিশ মাছ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও এক কেজি ইলিশ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ একই সময়ে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে ১ কেজি গরুর মাংস কেনা যাচ্ছে।

উপজেলার সালথা সদর বাজার, ঠেনঠেনিয়া, বালিয়া, মাঝারদিয়া, নকুলহাটি, ফুলবাড়িয়া, সোনাপুরসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারগুলোতে ছোট সাইজের ইলিশ (২-৩ টায় কেজি) ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে বড় সাইজের ইলিশ ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, কিন্তু দাম কম

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর। তবে চলতি মৌসুমে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এছাড়া মুড়িকাটা ২০০ হেক্টর ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে কিছু কিছু এলাকায় অপরিপক্ব (‘হালি’) পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। অনেক চাষি অগ্রিম পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন, যা মোট উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎপাদন খরচের চেয়ে দাম কম

উপজেলার কয়েকজন পেঁয়াজ চাষির সাথে কথা হলে তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর তারা বেশি পরিমাণে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়েছে বহুগুণ। ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। এছাড়া বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা পড়েছেন বিপাকে।

চাষিরা জানান, মন প্রতি পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ বর্তমানে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়। এতে লোকসান গুনছেন তারা।

চাষিরা মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখে দাম ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা রাখার দাবি জানান। একইসঙ্গে পেঁয়াজের বীজ ও রাসায়নিক সারের দাম কমানো এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত রাখার কথা বলেন তারা। পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা বৃদ্ধি ও স্বল্প মুনাফায় কৃষি ঋণ প্রদানের দাবিও জানান অনেক চাষি।

সংরক্ষণাগার ও ন্যায্য মূল্যের অভাব

চাষিরা আরও জানান, মৌসুমের মাঝামাঝি থেকে শেষ সময়ে পেঁয়াজ চলে যায় মজুতদারের হাতে। তখন দাম বাড়লেও কৃষকের আর লাভ হয় না। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় অনেকের পেঁয়াজ অল্পতেই পঁচে যায়। তাই বেশি বেশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি জানান তারা।

বীজের অতিরিক্ত দামের কারণেও অনেকে চারা উৎপাদন করতে পারেন না। উচ্চমূল্যে তাদের ‘হালি’ পেঁয়াজ কিনে রোপণ করতে হয়। পরিবহনের সময় এসব পেঁয়াজ নষ্ট হলে উৎপাদনেও প্রভাব পড়ে। ফরিয়া ও ব্যাপারীরা নানা ভাবে হয়রানি করায় চাষিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এভাবে চলতে থাকলে পেঁয়াজ চাষে কৃষক মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

ব্যবসায়ী ও কৃষি অফিসের ব্যাখ্যা

উপজেলার বিশিষ্ট পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এরশাদ মোল্যা বলেন, সারাদেশের সব জেলা থেকে একসঙ্গে পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। এছাড়া ঈদ সামনে রেখে বাজারে আমদানি প্রচুর হয়েছে। অপরিপক্ব, কাটা ও ফাটা পেঁয়াজের দাম বাজারে কম থাকে। ঈদ উপলক্ষে ঢাকার অনেক আড়ৎ বন্ধ থাকায় দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। কিছুদিন পর দাম বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন সিকদার বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সঠিকভাবে অর্জনের জন্য সরকার কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করেছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি, তারা পেঁয়াজের সঠিক দাম পাবেন। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।