bogra times cover image-1
ঢাকাসোমবার , ৩ আগস্ট ২০২৬

দেশে প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি শুরু, প্রজ্ঞাপন জারি

নিউজ ডেস্কঃ-
আগস্ট ৩, ২০২৬ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুপ্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। এখন থেকে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে সমপদে বদলি হতে পারবেন শিক্ষকরা। এ লক্ষ্যে সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে, যা স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বদলি প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। নীতিমালার আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বার্ষিক সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম নিয়োগের পর টানা অন্তত দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর একজন শিক্ষক বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। পরবর্তীতে নতুন কর্মস্থল থেকেও পুনরায় বদলির আবেদন করতে হলে সেখানেও ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এই বদলির সুযোগ পাবেন।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন। আবেদন মূলত নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলার শূন্য পদের বিপরীতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে নিজ জেলায় পদ খালি না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলায় আবেদনের সুযোগ থাকবে।

অগ্রাধিকার ও অন্যান্য শর্ত একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে জ্যেষ্ঠতা, নারী প্রার্থী, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল এবং বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরত্বের (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদ্ধতি অনুযায়ী) ওপর ভিত্তি করে। তবে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে আবেদন বাতিল করা হবে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন, তবে একই বিষয়ের একজন শিক্ষকের বেশি বদলি করা যাবে না। পুরো কার্যক্রমটি মাউশি মহাপরিচালকের অধীনে একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বদলিকৃত শিক্ষকের এমপিও, জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধাদি বহাল থাকবে। তবে এটিকে ‘অধিকার’ হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং বদলিজনিত কোনো টিএ-ডিএ ভাতা প্রদান করা হবে না। এছাড়া মামলা চলমান বা সাময়িক বরখাস্ত থাকা শিক্ষকরা আবেদনের সুযোগ পাবেন না।

আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বদলিকৃত শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

প্রথম বদলি সম্পন্ন, শিগগিরই স্কুল-কলেজে আবেদন ইতিমধ্যে এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে দেশে প্রথমবারের মতো এক শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে চাঁদপুরের কচুয়ার নিশ্চিন্তপুর ডি এস আলিয়া মাদ্রাসায় বদলি করা হয়েছে।

স্কুল-কলেজের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টেলিটকের পক্ষ থেকে সফটওয়্যার প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। মাউশির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষকই নীতিমালার আলোকেই বদলির সুযোগ পাবেন।