bogra times Add
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বগুড়ার শেরপুরে কলার কেজি ১৫০, সবজির দামও চড়া

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়ার শেরপুরে পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে কলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে কেজি ১৫০ টাকায় উঠেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সবজির দামও চড়া, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে ।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকট ও সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় উঠেছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৬০-৭০ টাকা। লম্বা বেগুন, যা ইফতারে বেগুনি বানানোর জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন, তার দাম বেড়ে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে ।

কাঁচামরিচের দামও আগুন। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা এক সপ্তাহে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। উচ্ছে ও কাঁচা পেঁপের দামও কম নয়—উচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ।

শুধু সবজি নয়, ফলমূলের বাজারও চড়া। কলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, অথচ সপ্তাহখানেক আগেও তা ছিল ৭০-৮০ টাকা। সবরি কলা ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর লেবুর হালি ৭০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে ।

মুরগির বাজারও অস্থির। ব্রয়লার মুরগির কেজি বেড়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা হয়েছে, যা দুই-আড়াই মাস ধরে ১৫০ টাকার কাছাকাছি ছিল। সোনালি জাতের মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ।

স্থানীয় ক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রতি রমজানেই দাম বাড়ে, কিন্তু এবার বাড়তি মাত্রা উদ্বেগজনক। এক ক্রেতা বলেন, ‘বেগুনের কেজি ১৫০ টাকা চায়। প্রতিবছরই রোজার আগে ব্যবসায়ীরা বেগুনের ‘ডাকাতি’ দাম নেন’ ।

বিক্রেতারা দাবি করছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে বলে তাদের খুচরা পর্যায়েও বাড়াতে হয়েছে। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, খুচরা ব্যবসায়ীরাই দাম বাড়িয়েছেন। জেলা কৃষি বিপণন বিভাগের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক আবু তাহের জানান, প্রতিবছর রোজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে থাকে, তবে এবার গতবারের চেয়ে বাড়তি একটু কম ।

বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি বাজার পরিদর্শন করে দাম না বাড়াতে সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও দাম বাড়ালে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানো হবে’ ।

রোজার পুরো সময় জুড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা ক্রেতা-বিশ্লেষকদের।