bogra times Add
ঢাকাশনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে আলোচনায় মাসউদা শুচি

আলিফ হোসেনঃ-
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিলেন। তবে দল, নেতা ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে বিজয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্যাগ তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের দৌড়ে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।

বিশেষ করে সংরক্ষিত সংসদীয় আসন-৪৪ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) নির্বাচনে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শুচিকে প্রার্থী করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংরক্ষিত আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীতা

জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংবিধান ও রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপল অর্ডার (আরপিও) অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে দলীয় আসনের অনুপাতে বিএনপি পাবে ৩৫টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন, ফলে তারাও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন।

সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই সংরক্ষিত আসনগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিএনপির শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কেউ কেউ ঢাকায় অবস্থান করে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির নেত্রীরা। কয়েকজন ছাড়া বেশিরভাগ নেত্রীই মনোনয়ন না পাওয়ায় এবার সংরক্ষিত নারী আসনকে সামনে রেখে মাঠে নামতে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যেও শুচির নাম উচ্চারিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

তৃণমূলে আস্থা ও ভরসার প্রতীক শুচি

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি বিএনপির রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায়ে আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি একজন সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবান নেত্রী হিসেবে পরিচিত। রাজনীতিকে তিনি কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ বা পদপ্রাপ্তির হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি, বরং জনগণের সেবা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিজীবন

একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা শুচি রাজনৈতিক সচেতন পরিবারের সন্তান। তার পিতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় রাজনীতির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। শৈশব থেকেই সংগ্রামী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শুচি ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন রাজনীতি মানে জনগণের পাশে থাকা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া।

এই ধারাবাহিকতায় তিনি ছোট থেকেই রাজনীতি ও সমাজসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, “রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণে কাজ করা—এই মনোভাবই একজন নেতাকে সত্যিকারের নেতা করে তোলে।”

পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতির মাঠে শুচি একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারী নেতৃত্ব হিসেবে সুপরিচিত। তার চরিত্র, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বদা স্বচ্ছ, সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। কোনো প্রকার হিংসা, লোভ বা স্বার্থপরতা তার রাজনীতিতে জায়গা পায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি প্রথম সারির কর্মী ও নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। যখনই দল বা দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই তিনি রাজপথে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে আওয়াজ তুলেছেন। উপজেলা, জেলা, বিভাগ এমনকি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সমাজসেবায় নিবেদিত জীবন

শুধু রাজনীতিবিদই নন, তিনি একজন নিবেদিত সমাজসেবকও। নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, বয়স্ক ও বিধবা নারীদের সহায়তা এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, “জনগণের সেবায় নিয়োজিত জীবনই সবচেয়ে বড় রাজনীতি।”

এখন সবার নজর বিএনপির হাইকমান্ডের দিকে। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা মাত্রই জানা যাবে, তৃণমূলের এই আস্থার প্রতীক শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে মনোনয়ন পান কিনা।