bogra times cover image-1
ঢাকাশনিবার , ৮ আগস্ট ২০২৬

সাড়ে ৬ বছরে ১৬ হাজার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: প্রাণ গেল ১৫,৭১২ জনের

নিউজ ডেস্কঃ-
আগস্ট ৮, ২০২৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্ক:

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তালিকায় উদ্বেগজনক স্থান করে নিয়েছে মোটরসাইকেল। গত সাড়ে ছয় বছরে দেশে মোট ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং প্রায় ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় হতাহতদের একটি বড় অংশই কিশোর ও উদীয়মান তরুণ। আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমে এই প্রতিবেদন পাঠায় সংস্থাটি।

দুর্ঘটনার চালচিত্র ও নেপথ্য কারণ

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান ধরণগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ঘটেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা এবং মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে ঘটেছে ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে অনিয়ন্ত্রিত পণ্যবাহী যানবাহন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল আইন প্রয়োগ, মানহীন ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, নগরজুড়ে নিত্য যানজট এবং পর্যাপ্ত গণপরিবহনের সংকটই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট যানবাহন বা মোটরযানের ৭১ শতাংশই স্থান দখল করে আছে মোটরসাইকেল।

মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে জরুরি সুপারিশ

মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারে জীবন রক্ষার জোর সম্ভাবনা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্তত ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে জানানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংস্থাটি কয়েকটি জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে:

  • রাইডার ও সহযাত্রীদের জন্য মানসম্পন্ন হেলমেটের ব্যবহার কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক করা।

  • ট্রাফিক আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং সড়কে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি স্থাপন।

  • চালক ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি।

  • সড়ক অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করা এবং জনগণের জন্য নিরাপদ, সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।