bogra times Add
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ জুন ২০২৬

ঈদযাত্রায় সড়কে ১৩ দিনে নিহত ২৮১, প্রতিদিন গড়ে ২২

বার্তা বিভাগ
জুন ৪, ২০২৬ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদন: এবারের ঈদুল আজহাকে ঘিরে ঘরমুখী ও ফিরতি যাত্রায় দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথে প্রাণহানির চিত্র আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ঈদের আগে ও পরে ১৩ দিনে (২১ মে থেকে ২ জুন) মোট ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে Road Safety Foundation।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ২১ জনের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ 

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাহন হিসেবে উঠে এসেছে। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২৪ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৪ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ৩৭ জন এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন।

থ্রি-হুইলার, ট্রাক-পিকআপ, প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহনেও উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে।

সড়ক, নৌ ও রেলপথেও দুর্ঘটনা

এই সময়ে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ২২টি রেল দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে কোরবানির পশু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ২৪টি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন ও কারণ

বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিভাগভিত্তিক চিত্র

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে।

একক জেলা হিসেবে ফরিদপুরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

তুলনামূলক পরিস্থিতি

গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে প্রাণহানি কিছুটা কমলেও, পরিবহন ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৬ জন নিহত হলেও এবার তা কমে ২১ জনে নেমেছে।

পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ

সংস্থাটি বলছে, দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনও ঈদের সময় বিপুল যাত্রীচাপ সামলাতে সক্ষম নয়। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াত করে।

এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে রেল ও নৌপরিবহন সম্প্রসারণ, বিআরটিসি বাস বৃদ্ধি এবং রুটভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

সংস্থাটি মনে করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।