bogra times cover image-1
ঢাকাসোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তাই ‘চোর’, অনিয়ম-লুটপাটে মানুষের নাভিশ্বাস: স্পিকার

নিউজ ডেস্কঃ-
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক— দেশে দুর্নীতি, ঘুষ ও সম্পদ পাচারের মারাত্মক চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার অভাব এবং শাসনব্যবস্থার অনিয়ম উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। তারা নানা ধরনের ঘুষখোরি ও লুটপাট করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।”

রবিবার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম ও অর্থ পাচার’

বক্তব্যে স্পিকার অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে দেশের কোষাগার খালি করেছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আন্তর্জাতিক অনিয়মের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ফিলিপাইনে যারা অর্থ লুণ্ঠন ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার হয়েছে এবং তারা সবাই এখন কারাগারে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের কোনো বিচারই হয়নি।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে সাধারণ মানুষের চাওয়া ছাড়াই যেসব অপরাধের বিচার নিজে থেকেই হয়, বাংলাদেশে বছরের পর বছর কান্না করেও ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর শত শত বাড়ির উদাহরণ

আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রী ও নেতাদের দুর্নীতির কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, “সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের কেবল লন্ডনেই ৩৬০টি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া দুবাই ও আমেরিকাতেও তাঁর বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। এগুলো সব বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের রক্তঘাম অর্জিত টাকা, যা লুণ্ঠন করে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, বিগত সরকারের বহু দোসর ও আমলা এখনো প্রশাসনে পদে বহাল রয়েছেন। ফলে দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে পুরোপুরি উন্মোচিত হতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক বা উন্নতি করুক—তা প্রতিবেশী দেশ চায় না। তারা বাংলাদেশকে একটি ‘করদ রাজ্য’ বানিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় স্পিকার বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণের স্বার্থ পুরোপুরি বিসর্জন দিয়ে কেবল ওই প্রতিবেশীর স্বার্থ রক্ষা করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের সঙ্গে এমন অনেক অসম ও একপাক্ষিক চুক্তি করা হয়েছে, যা সরাসরি দেশের জাতীয় স্বার্থের চরম ক্ষতি করেছে।

‘বন্দরে অগ্রাধিকার পাচ্ছে ভারতীয় জাহাজ’ অসম চুক্তির উদাহরণ টেনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারের সময় ভারতীয় কোনো জাহাজ এলে অন্যান্য সব জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের নিজস্ব জাহাজগুলোকেও জেটি বা বন্দর খালি করে দিতে হয়। ভারতীয় জাহাজের মালামাল আগে খালাস বা আনলোড করার পরই দেশের আমদানিকারকেরা তাদের মালামাল খালাস করার সুযোগ পান।

প্রশাসনে এখনো দোসরদের অবস্থান তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বহু ঘনিষ্ঠ লোক এখনো প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসে আছে। তাদের অবস্থানের কারণেই বিগত আমলের চরম দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রকৃত সত্য ও বিবরণ জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছাতে পারছে না।