bogra times Add
ঢাকারবিবার , ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানের নতুন নৌ-ক্ষেপণাস্ত্র সায়াদ-৩জি’র সফল পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ৫:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক: আঞ্চলিক সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী তাদের অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। শনিবার হরমুজ প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অনুষ্ঠিত “স্মার্ট কন্ট্রোল” সামরিক মহড়ায় প্রথমবারের মতো নৌ-ভিত্তিক সায়াদ-৩জি বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষণ চালানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসি নৌবাহিনী শনিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও চিত্রে দেখিয়েছে, কীভাবে ‘শহীদ সায়াদ শিরাজী’ নামক যুদ্ধজাহাজ থেকে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ পদ্ধতিতে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়।

সায়াদ-৩জি হচ্ছে ভূমি-ভিত্তিক সায়াদ-৩ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক নৌ সংস্করণ। ইরানি সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ১৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৯৩ মাইল) পর্যন্ত, যা ভূমি-ভিত্তিক সংস্করণের (১২০ কিলোমিটার) চেয়েও বেশি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ‘শহীদ সোলেইমানি’ শ্রেণীর যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক বিমান প্রতিরক্ষা ছাতা (আম্ব্রেলা) তৈরি করতে সক্ষম হবে, যা সমুদ্রে ইরানি নৌবহরের নিরাপত্তা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

উল্লেখ্য, ইরান এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দীর্ঘ-পাল্লার ভূমি-ভিত্তিক সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। ছয় মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯০০ কিলোগ্রাম ওজনের সেই ক্ষেপণাস্ত্রটি এখন পর্যন্ত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন এই নৌ সংস্করণ যুক্ত হওয়ায় ইরানের সামরিক সম্ভার আরও সমৃদ্ধ হলো বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

বিশ্বের ব্যস্ততম সামুদ্রিক পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালীতে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে আন্তর্জাতিক মহল কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। ইরান ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়মিত প্রদর্শন করে আসছে। “স্মার্ট কন্ট্রোল” মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা দেশটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সুত্র- মিডল ইস্ট মনিটর