bogra times
ঢাকারবিবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

উরোপের ৮ বন্ধুদেশের ওপর শুল্ক আরোপ করলো ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনায় বাধা দেওয়ায় এবার ইউরোপের আটটি ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প এই বিতর্কিত ও কঠোর পদক্ষেপের কথা জানান।

টার্গেটে যে দেশগুলো

ট্রাম্পের এই শুল্কারোপের তালিকায় রয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী আটটি দেশ: ১. ডেনমার্ক ২. যুক্তরাজ্য ৩. জার্মানি ৪. ফ্রান্স ৫. নরওয়ে ৬. সুইডেন ৭. নেদারল্যান্ডস ৮. ফিনল্যান্ড

হুঁশিয়ারি: শুল্ক বাড়বে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে। তার ঘোষণা অনুযায়ী:

  • ১ ফেব্রুয়ারি থেকে: আমদানিকৃত সব পণ্যে ১০% অতিরিক্ত শুল্ক।

  • ১ জুন থেকে: শুল্ক বাড়িয়ে ২৫% করা হবে।

ট্রাম্পের দাবি, চীন গ্রিনল্যান্ডের ওপর নজর দিচ্ছে এবং ডেনমার্ক তা ঠেকাতে অক্ষম। তিনি বলেন, “কয়েক শতাব্দী পর ডেনমার্কের সামনে সময় এসেছে গ্রিনল্যান্ড ফেরত দেওয়ার।” এমনকি গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় দেশগুলোর সৈন্য পাঠানোকে তিনি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে বর্ণনা করেন। স্টারমার বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ এবং ন্যাটো মিত্রদের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপ অগ্রহণযোগ্য।” তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, শুল্ক আরোপের ঘোষণার আগেই গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ ট্রাম্পের ‘দখলনীতির’ বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

“যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি দেওয়া হবে, ততক্ষণ ইউরোপের বন্ধুদের ওপর শুল্ক আরোপ ক্রমবর্ধমান হারে অব্যাহত রাখা হবে।” — ডোনাল্ড ট্রাম্প

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বলপ্রয়োগের আভাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলো সেখানে সীমিত সংখ্যক সৈন্য পাঠালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘ট্রেড ওয়ার’ বা বাণিজ্য যুদ্ধ ইউরোপ-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।