bogra times
ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা প্রধান নির্বাচিত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ ৫:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর, বগুড়াঃ

শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান ২০২৬ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে মাদ্রাসা বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষা, ধর্ম ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিতেই এ সম্মান এসেছে।

অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের অর্জন নতুন নয়। ২০০৪ সালে তিনি ‘জাতীয় শ্রেষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষক (মাদ্রাসা)’ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। এছাড়া ১৯৯৯ ও ২০০২ সালে জাতীয় শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার ও সনদ লাভ করেন।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কাফুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করা মাওলানা হাফিজুর রহমান গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর ১৯৭৭ সালে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ১৯৯২ সালে কামিল হাদিস ও ফিকহ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে বিএ এবং ইসলামী শিক্ষায় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

১৯৯৩ সালে উলিপুর মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় সহ-সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান পরে উপাধ্যক্ষ পদে উন্নীত হয়ে ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজ গ্রামে কাফুরা পূর্বপাড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও কাফুরা সমবায় বালিকা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাফুরা সর্বোন্নতি বিধায়ক সমবায় সমিতি গড়ে তুলে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে পদক অর্জন করেন।

২০১১ সালে নন্দীগ্রামের দামগাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর ২০১৩ সালে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে নিয়মিত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি অবকাঠামো, একাডেমিক ভবন, হিফজুল কুরআন ও নূরানী বিভাগের আধুনিকীকরণসহ একাধিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যক্তিজীবনে তিনি পরিমিত জীবনযাপন ও সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে সক্রিয়। বর্তমানে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদার্রেছীন বগুড়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি এবং শেরপুর উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি ‘জান্নাতের রত্ন ভাণ্ডার’ নামে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার একটি ধর্মীয় গ্রন্থও সম্পাদনা করেছেন।

শিক্ষা, ধর্ম ও সমাজকল্যাণে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা এখন জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা প্রধান নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন স্বীকৃতি পেল।