bogra times
ঢাকাবুধবার , ২১ জানুয়ারি ২০২৬

সব দুর্বল ব্যাংক একসঙ্গে ঠিক করা সম্ভব নয়: গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে টাকার ঘাটতি রয়েছে এবং এই মুহূর্তে সব দুর্বল ব্যাংক একসঙ্গে সংস্কার বা ঠিক করা সম্ভব নয়। বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক লোক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার পরিকল্পনা

গভর্নর জানান, অতীতে কিছু খারাপ ব্যাংকের পরিস্থিতি সামাল দিতে টাকা ছাপিয়ে সহায়তা করতে হয়েছে। তবে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে। তিনি বলেন:

  • ধাপে ধাপে সংস্কার: প্রথমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে, এরপর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর দিকে নজর দেওয়া হবে।

  • ব্যাংক মার্জার: সরকার রাষ্ট্র মালিকানাধীন দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো মার্জ (একীভূত) করার পরিকল্পনা করছে। গভর্নরের মতে, বাংলাদেশে ১৫টির বেশি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে ১২-১৩টি ব্যাংককে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

ডিভিডেন্ড ও সুশাসন নিয়ে কঠোর বার্তা

ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড ঘোষণার ক্ষেত্রে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে গভর্নর বলেন:

  • খেলাপি ঋণ কাভারেজ: শতভাগ প্রভিশন বা ঋণখেলাপি কাভারেজ নিশ্চিত না করে কোনো ব্যাংক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না।

  • রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: ব্যাংকিং খাতে কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয় এবং দুর্বল ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

  • লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশে এবং পরবর্তী বছরের মার্চে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন উদ্যোগ: রেজুলেশন ফার্ম ও ফান্ড

ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‘রেজুলেশন ফার্ম’ গঠন করতে চায়। এজন্য ব্যাংকগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে একটি আলাদা ফান্ড তৈরি করা হবে। ড. মনসুর বলেন, “এই ফান্ড গঠিত হলে সংকটের সময় সরকারকে বা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আর অর্থের জন্য হাত পাততে হবে না।”

অনিয়ম ও পাচারকৃত অর্থ

গভর্নর আক্ষেপ করে বলেন, সুশাসনের অভাব, অনিয়ম ও পরিবারতন্ত্রের কারণে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যা পাচার হয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে স্বাধীনভাবে কাজ করলেও ভবিষ্যতে এই স্বাধীনতা বজায় থাকা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ক্যাশলেস সোসাইটির গুরুত্ব

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উপায় হিসেবে ড. মনসুর ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, দেশে ক্যাশলেস সিস্টেম পুরোপুরি চালু করা গেলে বছরে রাজস্ব আদায় ১.৫ থেকে ২ লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে, কারণ বর্তমানে নগদ লেনদেনের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়।