bogra times
ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

সাগর রক্ষা ও উপকূলীয় উন্নয়নে জাপানের সহায়তা, মিডার সঙ্গে এমওইউ

নিউজ ডেস্কঃ-
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্কঃ- সাগর সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) ও জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এই এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অধীন ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. আতসুশি সুনামি আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির অনুমোদন দেবেন। অনুষ্ঠানে ওপিআরআইয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. ইমাদুল ইসলাম এবং মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা সই প্রত্যক্ষ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সাগর বাংলাদেশের বড় সম্পদ হলেও দিন দিন তা দূষণের শিকার হচ্ছে। সমুদ্রের গভীরেও প্লাস্টিক বর্জ্যের উপস্থিতি উদ্বেগজনক। এই চুক্তি সাগর রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। সামুদ্রিক গবেষণায় বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ কাজকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট যুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে গবেষণার পরিধি আরও বাড়বে।

এই সমঝোতার আওতায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে ‘উমিগিও’ ধারণা অনুযায়ী মডেল মৎস্যগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে মিডাকে সহায়তা করবে। উপকূলীয় উন্নয়ন ও কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নে নিয়োজিত বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে মিডা, দেশের ২০টির বেশি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে নির্ধারিত মৎস্য ও সামুদ্রিক খাতের জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ফাউন্ডেশনটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে।

চুক্তির আওতায় জাপানের নীল অর্থনীতির অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে মেরিকালচার, মৎস্য, মৎস্যোত্তর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জেলেদের কল্যাণে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় জীবিকায়ন, সাগরে নিরাপত্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন দাতব্য প্রতিষ্ঠান। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নীতিমালা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।