bogra times
ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বড়ই বাগান : স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা

নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় উন্নত জাতের বড়ই (বের/কুল) চাষ করে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন কৃষক রাহাদ খাঁন রুবেল। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বড়ই বাগান গড়ে তোলার আগ্রহ জাগিয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনায় রুবেল এখন এলাকার কৃষকদের কাছে এক অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছেন।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সান্তান গ্রামের বাসিন্দা রুবেল নিজের ২০ বিঘা জমির সঙ্গে আরও ৫ বিঘা লিজ নিয়ে মোট ২৫ বিঘা জমিতে বড়ই বাগান তৈরি করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় প্রায় ৭ মাস আগে তিনি বাগানে চারা রোপণ করেন।

বাগানে রয়েছে উন্নত জাতের বলসুন্দরী, থাইকুল, আপেল কুলকাশ্মীরি—মোট ১ হাজার ২০০টি গাছ। জমি প্রস্তুতি, চারা কেনা, রোপণ, পরিচর্যা ও ফল তোলা পর্যন্ত তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা

চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো গাছে প্রচুর বড়ই ধরেছে। ফলগুলো আকারে বড়, স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুসারে রুবেল আশা করছেন, প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকার বড়ই বিক্রি করতে পারবেন। খরচ বাদ দিয়ে নেট লাভ হবে প্রায় ২ লাখ টাকা—যা অনেক ঐতিহ্যবাহী ফসলের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক।

তিনি আরও আশাবাদী যে, পরবর্তী বছরগুলোতে গাছ পরিপক্ব হলে উৎপাদন বাড়বে এবং নতুন চারা লাগানোর খরচ না থাকায় লাভের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

রুবেলের সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক কৃষক তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং কৃষি বিভাগের কাছ থেকে বড়ই চাষের পরামর্শ নিচ্ছেন।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, “বড়ই চাষ অত্যন্ত লাভজনক। তাড়াশ উপজেলায় উন্নত জাতের বড়ই চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে এ চাষ হয়েছে। রাহাদ খাঁন রুবেলের মতো সফলতা অন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছে। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগ সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

এ ধরনের সফল উদ্যোগ কৃষি খাতে বৈচিত্র্য আনতে এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।