bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জুলাই শহীদদের অশ্রদ্ধার অভিযোগ, জামায়াতের মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার কারন

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৮:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক প্রতিবেদকঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করার পরও সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বক্তব্যে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং এর কারণ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি ছিল তাদের (বিএনপি) মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার। কিন্তু আমরা মানসিকভাবে ধাক্কা খেয়েছি। আমরা আমাদের জুলাই শহীদদের অশ্রদ্ধা করতে পারি না।”

শপথের চিঠি ও সাংবিধানিক জটিলতা

শপথ গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির জানান, তাদের কাছে প্রেরিত চিঠিতে দুটি পৃথক শপথের কথা উল্লেখ ছিল। একটি ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ এবং অন্যটি ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদের গণভোটের শপথ। তিনি অভিযোগ করেন, শপথ কক্ষে প্রবেশের পর সচিব তাদের জানান, সরকারি দল (বিএনপি) কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে, যা তাদের কাছে বিভ্রান্তিকর ও হতাশাজনক বলে মনে হয়েছে।

“আমরা রুমে প্রবেশ করার পর সচিব জানালেন সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আমরা দুটো নিলাম,” বলেন ডা. শফিকুর রহমান, যা ইঙ্গিত করে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা উভয় শপথ গ্রহণ করলেও তা নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও সরকারের অবস্থান

২০২৬ সালের এই নির্বাচনের পটভূমি ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির বলেন, “২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কারণেই এই নির্বাচন হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, জামায়াত জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাব্য গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়েই শপথের বিষয়টি বিবেচনা করেছে।

তবে বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে জুলাই বিপ্লবের প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। তার মতে, “সরকারি দল ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ না নিয়ে জুলাইকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। এটা জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও নির্বাচনী প্রচারণায় গণভোটে ‘হ্যাঁ‘-এর পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন, কিন্তু এখন সেই সংস্কার প্রক্রিয়ার শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে তিনি তার অবস্থানের বিপরীতে চলে গেছেন।

গৌরবের আসন ও জুলাইয়ের স্বীকৃতি

জুলাই বিপ্লবের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কার কাছে শপথ নেবে সেটা তারা তাদের পছন্দমতো ব্যক্তির কাছে নিতে পারেন। কিন্তু আমরা দেখতে চাই জুলাই সম্মানিত হয়েছে, স্বীকৃতি পেয়েছে। জুলাইকে অসম্মান, অশ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি না দিয়ে ২৬-এর এই পার্লামেন্ট গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।”

শেষ পর্যন্ত জামায়াতের এই সিদ্ধান্তে আক্ষেপের কথাও জানান তিনি। বলেন, “শত ইচ্ছা থাকলেও আমরা শপথে যেতে পারলাম না। এজন্য আফসোস আছে।”

জামায়াতের এই অবস্থানের ফলে নবগঠিত সরকার ও তাদের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হবে এবং ভবিষ্যতে এই জোট কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।