bogra times Add
ঢাকাশুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুরে পৌর নির্বাচনী হাওয়া, আলোচনার শীর্ষে ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে এখনই সরব হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে দলীয় অন্দর—সবখানেই চলছে হিসাব-নিকাশ। এই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু, যিনি এবার প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা মিন্টু বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার রাজনৈতিক পরিচয় কেবল সাংগঠনিক পদে সীমাবদ্ধ নয়; উত্তরবঙ্গের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে তার সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করছেন সহকর্মীরা।

১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচিতি বিস্তৃত হয়। ওই সময় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের ধারাবাহিক সাফল্যের সূচনায় তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন দলীয় নেতারা। পরবর্তীতে সরকারি আজিজুল হক কলেজ–সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তিনি কাজ করেন বলে জানা যায়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় শেরপুরকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক তৎপরতা গড়ে ওঠে, সেখানে মিন্টুর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৮ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, পরে দীর্ঘ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০২২ সালে সরাসরি ভোটে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।

তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর পৌরসভায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বিগত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তারা বলছেন, নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের মতে, “সৎ ও ত্যাগী নেতৃত্ব” হিসেবে মিন্টুর ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের কথাও আলোচনায় আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার কাঠামোয় পরিবর্তনের পর প্রশাসকের মাধ্যমে পৌর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

ব্যক্তিগত জীবনে নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মিন্টুর ঘনিষ্ঠরা। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কারণে তিনি মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে এসবের মধ্যেও তিনি দলীয় কার্যক্রম থেকে সরে যাননি।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার কারণে এলাকায় তার একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন সমর্থকেরা।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি পৌরসভার সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চান। “প্রতি ওয়ার্ডে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মানুষ যাতে সরাসরি তাদের সমস্যা জানাতে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখা হবে,” বলেন তিনি। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে কাজ করার কথাও জানান এই নেতা।

নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে উঠছে জনপদ। এর মধ্যে মিন্টুকে ঘিরে আলোচনাও বাড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ও ভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে শেরপুর পৌর রাজনীতির আগামী দিকনির্দেশনা—এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।