bogra times cover image-1
ঢাকাবুধবার , ১৩ মে ২০২৬

এপ্রিলে সড়কে ঝরল ৪০৪ প্রাণ, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

নিউজ ডেস্কঃ-
মে ১৩, ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা প্রতিনিধি:

দেশে গত এপ্রিল মাসে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত এবং ৭০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৫৩ জন ও শিশু ৪৮ জন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এ সময়ে দেশে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৩৪টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১১৩ জন, বাসের যাত্রী ৩০ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-লরি-ট্রলি-ট্রাক্টর আরোহী ৫১ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন এবং থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের ১০ জন যাত্রী এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৮টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৫টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৯৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৫২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৬৫৯টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৫৩টি, থ্রি-হুইলার ১১২টি, ট্রাক ৯১টি, বাস ৮৪টি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে, যার হার ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। রাতে ঘটেছে ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হারও ছিল বেশি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে। সেখানে ১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন।

রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৯ জন শিক্ষার্থী, ২২ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ১৭ জন পণ্য বিক্রয় প্রতিনিধি, ১৪ জন এনজিও কর্মী এবং ১২ জন ধানকাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিহতদের তালিকায় রয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও অসুস্থতা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে।

সংস্থাটি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ ও বিআরটিসির সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরি এবং মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।