bogra times Add
ঢাকাবুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

একক সরকার গঠনে সক্ষম হব ; ডব্লিউভে সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান

নিউজ ডেস্কঃ-
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে এবং এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। জার্মানির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, দেশে ফিরে আসার চ্যালেঞ্জ, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, গুম-খুনের বিচার এবং অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত মতামত দেন।

ডয়চে ভেলে: জনাব তারেক রহমান, আগামীকালের নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে বলে আপনি মনে করেন?

তারেক রহমান: আমরা আশা করছি নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও সেই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।

ডয়চে ভেলে: ১৭ বছর পর আপনি দেশে ফিরেছেন। এই সময়ে দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

তারেক রহমান: চ্যালেঞ্জটা হয়তো কিছুটা আমারই ছিল। এত বছর পর এসে মানুষের চোখে-মুখে একটা বড় প্রত্যাশা দেখেছি। অন্যদিকে, দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই আমার আম্মা ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। একদিকে এই ব্যক্তিগত শোক, অন্যদিকে সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণা ও দল গোছানোর কাজ—এই দুটোর মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এগোনোটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি মনে করি, আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছি।

ডয়চে ভেলে: এবার অনেক তরুণ ও প্রথমবারের ভোটার রয়েছেন। তাদের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের বিশেষ কোনো উদ্যোগ আছে কি?

তারেক রহমান: আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখে থাকেন, সেখানে আমরা তরুণ, বয়স্ক, নারী, প্রতিবন্ধী—সবার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা রেখেছি। দেশ গড়তে হবে সবার অংশগ্রহণে।

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং বিএনপির সঙ্গে ভারতের দূরত্ব নিয়ে অনেক আলোচনা আছে। ভবিষ্যতে সম্পর্ক কী রকম হবে?

তারেক রহমান: দেখুন, আমরা যদি দেখি যে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বা কাজ হচ্ছে, সেটা ভারতের সাথেই হোক বা অন্য কোনো দেশের সাথেই হোক, সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। আমি বাংলাদেশের মানুষকেই প্রতিনিধিত্ব করি।

ডয়চে ভেলে: চীনের ব্যাপারে আপনাদের নীতি কী?

তারেক রহমান: বর্তমান বিশ্বে আমাদের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবেই। আমাদের দেশের স্বার্থ ও মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, এমন সম্পর্ক আমরা গুরুত্ব দেব।

ডয়চে ভেলে: জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে সরকার গঠনের কোনো সম্ভাবনা আছে কি?

তারেক রহমান: আমরা আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের রায় দেবেন। আমরা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হব। একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য একটি কার্যকর বিরোধী দলও প্রয়োজন।

ডয়চে ভেলে: নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

তারেক রহমান: আমরা শুধু কিছু আসনে নারী প্রার্থী দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না। বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষাকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে করেছিলেন। আমরা তা আরও উচ্চশিক্ষায় সম্প্রসারণ করব। প্রতিটি গৃহিণী, বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায় থেকে, আমরা একটি ‘পরিবার কার্ড’ দেব, যা দিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবেন। নারীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সে জন্য আমরা বড় শহরগুলোতে শুধু নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালু করব, যার ড্রাইভারও নারী হবেন।

ডয়চে ভেলে: আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

তারেক রহমান: রাজনীতি মানুষের সমর্থনের জায়গা। মানুষ যাকে চায়, তাকে কেউ আটকাতে পারে না। যাকে মানুষ চায় না, শক্তি প্রয়োগ করেও সে টিকে থাকতে পারে না।

ডয়চে ভেলে: বিএনপির কিছু প্রার্থী ঋণখেলাপি—এমন অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

তারেক রহমান: দুর্নীতি আর ব্যাংক ডিফল্ট এক জিনিস নয়। আমাদের অনেক নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীকে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করা হয়েছে, তাদের ব্যবসা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের ডিফল্ট হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

ডয়চে ভেলে: বিগত বছরগুলোতে অনেক গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?

তারেক রহমান: অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনা আছে। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হবেন, খুন হবেন, আর তার কোনো বিচার হবে না—এটা হতে পারে না। আইনের শাসন নিশ্চিত করে প্রত্যেক ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পুরো- খবর সুত্র – ডেয়েচে ভেলে