bogra times Add
ঢাকাবুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারকে হুমকি; নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

শেরপুর,বগুড়া প্রতিনিধি:-
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৭:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা একটি মামলার প্রধান সাক্ষীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হওয়া গেলেও মামলার আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উল্টো বাদীর পরিবারকে মামলা প্রত্যাহার ও দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় পরিবারটির সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টার দিকে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. আলতাফ আলী, নিহতের পুত্র মো. আশরাফুল ইসলাম, পুত্রবধূ মোছা. রঞ্জনা আক্তার এবং আলতাফ আলীর স্ত্রী মোছা. রাহেলা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলতাফ আলী জানান, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী কলোনী এলাকায় তাদের পৈতৃক ৮৬ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় মো. নবাব আলী ও মোছা. মর্জিনা বেগম গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করলে বাদীপক্ষ বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ওই ঘটনায় আলতাফ আলী বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা (মামলা নং ৬০৯ সি/২০২৪) দায়ের করেন। ওই মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন তার বড় ভাই মো. ইয়াকুব আলী (৭২)।

আলতাফ আলী অভিযোগ করে বলেন, ইয়াকুব আলী আদালতে সত্য সাক্ষ্য দিলে আসামিদের সাজা নিশ্চিত জেনে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে নবাব আলী গং। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ সকাল সোয়া ৮টার দিকে ইয়াকুব আলী মাঠ থেকে কাজ শেষে খড় নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নবাব আলী ও মর্জিনা বেগমসহ তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাঁর পথরোধ করে বর্বরোচিত মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং ১৫৮ সি/২০২৫) দায়ের করা হলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে (পিএম নং: ৫৮৮/২৪) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, নিহতের বুকের বাম পাশে পাঁজরের নিচে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত বা কিল-ঘুষির কারণে গুরুতর আঘাতের সৃষ্টি হয় এবং প্রচুর জমাট রক্ত পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নিতে এবং সপরিবারে দেশত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন। এতে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, “ইয়াকুব আলী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আদালত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু হলেই তাদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”