bogra times Add
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ মার্চ ২০২৬

৩ সপ্তাহের বেশি গলা ব্যথা? উপেক্ষা করবেন না, এটি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে

নিউজ ডেস্কঃ-
মার্চ ৩, ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাধারণ সর্দি-কাশি নয়, সতর্ক হোন: ৩ সপ্তাহের বেশি গলা খারাপ থাকলে পরীক্ষা করানো জরুরি

গলা ব্যথা বা খুসখুসে ভাব একটি সাধারণ সমস্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে এবং কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদি হয়, বিশেষ করে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বর ভাঙা (হোয়ার্সনেস) বা গলা ব্যথা অব্যাহত থাকে, তবে তা ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, গলার ভেতরের অংশ ল্যারিংক্স (ভয়েস বক্স) বা ফ্যারিংক্সে টিউমার তৈরি হলে তা সরাসরি ভোকাল কর্ডকে প্রভাবিত করে। যার ফলে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে কর্কশ বা ভাঙা ভাঙা শোনায়। প্রখ্যাত চিকিৎসা তথ্য সূত্র মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের কারণে সৃষ্ট গলা ব্যথা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক বা সাধারণ ওষুধে সারে না এবং এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে ।

কখন সতর্ক হবেন?

চিকিৎসকেরা বলছেন, নিচের কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত:

১. টানা ২-৩ সপ্তাহের বেশি কণ্ঠস্বর ভাঙা: সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গেও কণ্ঠস্বর ভাঙে, তবে তা ২ সপ্তাহের মধ্যেই সেরে যায়। যদি ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভয়েস ঠিক না হয়, তবে তা ক্যানসারের সংকেত হতে পারে ।
২. গিলতে সমস্যা ও গলায় পিণ্ডের অনুভূতি: খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া বা গলায় সবসময় কিছু আটকে আছে মনে হওয়া ।
৩. গলায় বা ঘাড়ে চাকা (লাম্প): ঘাড়ের কোনো স্থানে ব্যথাহীন পিণ্ড বা চাকা অনুভব করা ।
৪. কানে ব্যথা: গলার সমস্যার সঙ্গে সঙ্গেই কানে ব্যথা অনুভূত হওয়া ।
৫. শ্বাস নিতে বা কথা বলতে অসুবিধা: টিউমার বড় হয়ে গেলে শ্বাসনালী বন্ধ করে দিতে পারে, যা জরুরি অবস্থার সংকেত ।
৬. ওজন কমে যাওয়া ও কাশি: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি ।

কেন হয় এই ক্যানসার?

গলা বা স্বরযন্ত্রের ক্যানসারের প্রধান ঝুঁকির কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদি তামাক সেবন ও মদ্যপান। যারা একইসঙ্গে ধূমপান ও মদ পান করেন, তাদের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি । এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণও মুখগহ্বর ও গলার ক্যানসারের জন্য দায়ী । কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাঠের ধুলো, পেইন্ট, অ্যাসবেস্টস বা পেট্রোলিয়াম জাতীয় রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসলেও ঝুঁকি বাড়ে । গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায় ।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামাক ও মদ্যপান ত্যাগ করা এবং এইচপিভি টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব । তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাথমিক শনাক্তকরণ। পেন মেডিসিনের তথ্যমতে, যদি টিউমারটি ছোট অবস্থায় শনাক্ত করা যায়, তবে শুধু সার্জারি বা রেডিয়েশন থেরাপিতেই তা পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব এবং রোগীর ভয়েসও বাঁচানো যায় । কিন্তু ক্যানসার যদি লিম্ফ নোড বা শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা মূলত রোগীর জীবনমান উন্নয়নে সীমাবদ্ধ থাকে ।

চিকিৎসকেরা তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলছেন, “কণ্ঠস্বর ভাঙা বা গলা ব্যথাকে অবহেলা করবেন না। যদি এটি ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই একজন কান-নাক-গলা বিশেষজ্ঞ (ENT) দেখিয়ে পরীক্ষা করান।”